NBAJEE99: সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি স্কট: টেলরের একমাত্র বড় ভুল ছিল রোমেরোর চুল টানা না দেখা
ইংল্যান্ডের খ্যাতিমান রেফারি অ্যান্থনি টেলর অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর বিদ্রূপের শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে আরেক সাবেক প্রিমিয়ার লিগ রেফারি গ্রাহাম স্কট দ্য অ্যাথলেটিকে লেখা কলামে টেলরের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

অ্যান্থনি টেলরের অবসরের পর বিদ্রূপ, রেফারিদের নিয়ে সমর্থকদের পক্ষপাতদুষ্ট ধারণা ভাবনার বিষয়
ফুটবলে একটি কুৎসিত প্রবণতা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে, আর এই কৃতী রেফারির অবসরের ঘোষণা তার স্পষ্ট উদাহরণ। অ্যান্থনি টেলরের উজ্জ্বল রেফারিং ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার খবরে সহকর্মীরা কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানালেও বিপুলসংখ্যক সমর্থকের সর্বব্যাপী বিদ্রূপে তা ঢাকা পড়ে গেছে।
তাঁর ক্যারিয়ারের একমাত্র বড় ভুলটি হয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে চেলসির মাঠে টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ দিকে রোমেরো কুকুরেয়ার চুল টানলেও টেলর তা দেখতে পাননি। এরপর টটেনহাম কর্নার পায় এবং হ্যারি কেইন সমতা ফেরান। তবে ওই ভুলের বড় দায় ভিএআরের—ভিডিও দল ঘটনাটি দেখেও টেলরকে কিছু না জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
অবশ্য অনেক ক্লাবের সমর্থক বহু আগেই ব্যক্তিগত বদ্ধধারণায় আটকে পড়েছেন; তাঁদের কাছে তথ্যের কোনো মূল্য নেই। তাঁরা আরও পুরোনো ঘটনা টেনে আনবেন, ফল মনমতো না হলেও নিয়ম অনুযায়ী সঠিক ছিল—এমন সিদ্ধান্ত আঁকড়ে ধরবেন অথবা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারত এমন সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখাবেন। কেউ হয়তো বলবেন, টেলরের সাবেক সহকর্মী হিসেবে আমি স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পক্ষ নেব।
টেলর আরও ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য। ২০ বছরের রেফারিং ক্যারিয়ারে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৬৩টি ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন—যা ইংল্যান্ডের যেকোনো পুরুষ ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ম্যাচসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতার ফাইনাল পরিচালনার আমন্ত্রণও তিনি বহুবার পেয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ড দল ঘন ঘন সেমিফাইনালে না উঠলে বড় আসরে তাঁর সুযোগ আরও বেশি হতে পারত।
সব রেফারির মতো তিনিও অল্প পারিশ্রমিকে স্থানীয় অপেশাদার মাঠে খেলা পরিচালনার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, শুধুই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে। প্রিমিয়ার লিগে পৌঁছাতে সাধারণত ১৫ বছর লাগে; পদোন্নতির সিঁড়িতে একবারে মাত্র ১টি ধাপই পেরোনো যায়। টেলর ২০১০ সালে সেই লক্ষ্য অর্জন করেন। সেখানে পৌঁছাতে প্রতিভা, শৃঙ্খলা, ত্যাগ ও সৌভাগ্য—এই ৪টির একটিও বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই; পাশাপাশি প্রয়োজন অসাধারণ চাপ সহ্য করার ক্ষমতা।
টেলর রেফারির কাজ ভালোবাসতেন, কিন্তু ভিএআর হিসেবে দায়িত্ব পালন একেবারেই পছন্দ করতেন না এবং দ্রুত বুঝেছিলেন কাজটি তাঁর জন্য নয়। তিনি ভিডিও প্রযুক্তির প্রচলন সমর্থন করেছেন। নিজের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে মাঠের পাশের মনিটরে তা দেখতে কখনো আপত্তি করেননি; সব সময় ন্যায্য সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সম্ভবত এই দৃঢ়তা এসেছে কারারক্ষী হিসেবে তাঁর আগের পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে।
তিনি সব সময় নির্ভুল থাকতে পারেননি এবং ক্যারিয়ারে ভুল সিদ্ধান্তও দিয়েছেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে কঠিন বিষয় ভিএআরের ওপর চাপিয়ে দেননি। টেলর মাঠে যা দেখেছেন, তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; নিজেকে সঠিক মনে হলে অবস্থানে অটল থেকেছেন, আর সন্দেহ থাকলে জেদ ধরে ভুল চালিয়ে যাননি।
এই ভারসাম্য এবং সবার সঙ্গে সব সময় শালীন আচরণের কারণেই টেলর খেলোয়াড় ও কোচদের সম্মান অর্জন করেছেন। অধিকাংশ পেশাজীবীই নিজেদের ম্যাচে তাঁকে রেফারি হিসেবে পেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
ক্যারিয়ারের শেষ দিকে মাঠের বাইরে রেফারি দলের নেতার ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি। রেফারিদের দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন, ঊর্ধ্বতন সংস্থা—ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ও প্রিমিয়ার লিগের—সামনে নির্ভয়ে সমস্যার কথা বলেছেন এবং প্রচণ্ড চাপে থাকা সহকর্মীদের নিজে থেকে খোঁজ নিয়েছেন; কারণ আমাদের সবাইকেই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
টেলর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যা-ই শুরু করুন না কেন, তাঁর এই গুণ ও বিশ্বাসগুলো অটুট থাকবে এবং তাঁকে আরও সম্মান এনে দেবে।